
কুমারখালী উপজেলা সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘটিত একটি হামলায় নারীসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মুতাই শেখ অভিযোগ করেন যে, তিনি মাঠ থেকে বাড়িতে ফেরার পর দুলাল শেখের নেতৃত্বে ৭-8 জন লোক তার বাড়িতে প্রবেশ করে বিনা কারণে গালিগালাজ শুরু করে। তিনি এর প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা হাসুয়া, বাটাম ও বাঁশ দিয়ে তাকে এবং তার স্ত্রী কমেলা খাতুনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত করে। হামলায় আহত কমেলা খাতুনের পিঠ ও কোমরে আঘাত লাগে এবং চুল ধরে টানাটানি করে তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলার কারণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। এ ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং বাড়িতে থাকা দুই গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়, আর তাদের শ্বশুর বাঁচাতে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এই বর্বরোচিত হামলায় অভিযুক্ত হিসেবে দুলাল শেখ, জয় শেখ, রফিকুল শেখ, আলিফ, মঞ্জু শেখ, হেলাল শেখ, রুমা খাতুন ও মিসমার নাম উঠে এসেছে। ঘটনার পেছনে বাড়ির মেহগনি গাছের ডাল ঘরের ওপর পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত দুলাল শেখ ও মঞ্জু শেখ দাবি করেছেন যে, পূর্বে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের ভাস্তিকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে মুতাই পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তারা কারাগারেও ছিলেন। অভিযুক্তদের ভাষ্যমতে, ইতিপূর্বে সালিশ হলেও মুতাই পক্ষ তা মান্য করেনি। স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে গুরুতর আহত মুতাই শেখ ও কমেলা খাতুনকে উদ্ধার করে দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এই বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি, তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।